Blog

আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবসঃ শিপন কুমার বসু।

Shipan
Shipan Kumar Basu President (whsc)
শেখ হাসিনা নিপাতযাক গণতন্ত্র মুক্তিপাক, আওয়ামী লীগ নিপাতযাক বাংলার মানুষ মুক্তিপাক। আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবসে এটাই হউক জনগণের একমাত্র স্লোগান। আজ ১৫ সেপ্টেম্বর, আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস। আজ সারা বিশ্বে আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস হলেও বাংলাদেশের জনগণের কাছে এর কোন তাত্পর্য নেই। ২০১৪ সালে ৫ ই জানুয়ারী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে গলা টিপে হত্যা করে এবং ২০১৮ সালের ৩০ শে ডিসেম্বর মৃত গণতন্ত্রকে নিজ হাতে মাটিচাপা দেয়। ইতিপূর্বে ১৯৯৬ সালের ১৫ ই ফেব্রুয়ারী ভোট ও ভোটার বিহীন একতরফা সাঁজানো নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছিলন বেগম খালেদা জিয়া (সাবেক প্রধান মন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন)। বিশ্ববাসী ভালভাবে অবগত আছেন যে, ৫ ই জানুয়ারীর নির্বাচনে জনগণ কোন ভোট দিতে পারেননি; যার ফলে শেখ হাসিনা ১৫৪ জন সাংসদকে বিনা প্রতিদ্বন্ধীতায় বিজয়ী দেখিয়েছিল। ৩০ শে ডিসেম্বর নির্বাচনের পূর্ব নির্ধারিত তারিখ থাকলেও শেখ হাসিনার নির্দেশে ২৯ শে ডিসেম্বর মধ্যরাতেই আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা জালভোট মেরে ব্যালট বাক্স ভর্তি করে রাখে। নির্বচনের দিন শুধু মাত্র ফলাফল ঘোষণা করা হয়। ভোট ডাকাতির কাজে তখন সর্বাত্বক সহযোগিতা করেছিল শেখ হাসিনার আমলে নিয়োগ ও পদোন্নতি প্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা, কিছু আসত্ নির্বাচন কর্মকর্তা, কিছু সংখ্যাক স্বার্থপর প্রশাসন কর্মকর্তা, কিছু দুর্নীতিবাজ সচিব ও আমলা। তখন পুরো প্রক্রিয়াটিকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভোট ডাকাতির “পূর্ণাঙ্গ প্যাকেজ” হিসাবে নিয়েছিল শেখ হাসিনা। আর এই প্যাকেজটির মূল দায়িত্বে নিযুক্ত ছিল প্রধান নির্বাচন কমিশনার নূরুল হূদা। তখন শেখ হাসিনার নির্দেশে ৩০০ আসনের মধ্য ২৯৩ জন সাংসদকে বিজয়ী ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার নূরুল হূদা।
whsc image
whsc image
৫ই জানুয়ারীর পাতানো নির্বাচনের পরে সারা দেশব্যপী সরকার দলীয় সন্ত্রাসীরা খুন, গুম, ধর্ষণ, গণধর্ষণ, অপহরণ, সংখ্যালঘু নির্যাতন, জোর করে ধর্মান্তর করন শুরু করে এবং অবৈধ হাসিনা সরকার পাঠ্য বই থেকে হিন্দু লেখকদের লেখা বাদ দেয় এবং পাঠ্য বইয়ে হিন্দু ও সকল অমুসলিমদের বিরুদ্ধে ঘৃণা সূচক লেখনি অন্তর্ভূক্ত করে। বর্তমান অবৈধ সংসদের বিরোধীদলীয় নেত্রী এবং স্বৈরাচার ও ভোট ডাকাতের মূল হোতা শেখ হাসিনার প্রধান সহযোগী হচ্ছেন রওশন এরশাদ। যিনি সাবেক সামরিক শাসক হুসেইন মোহাম্মদ এশাদের সহধর্মীনি। হুসেইন মোহাম্মদ এশাদের ১৯৮৮ সালের ৮ ই জুলাই বাংলাদেশের সংবিধানে সর্ব প্রথম বিসমিল্লাহ অন্তর্ভুক্ত করেন। পরবর্তীতে তিনি শেখ হাসিনার আঁচলের নিচে থেকে দেশকে ইসলামী করন ও গণতন্ত্রকে ধ্বংস করতে প্রধান সহযোগী হিসাবে কাজ করেন। সে জন্য বাংলার মানুষ এরশাদের স্ত্রীকেও সংসদে দেখতে চান না। ৩০ শে ডিসেম্বরের পাতানো নির্বাচনের পর অপরাধ ও দুর্নীতি অতীতের যে কোন সময়ের চেয়ে কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছে। বিশেষ করে সংখ্যালঘু নির্যাতন, সংখ্যালঘু মেয়েদের ধর্ষণ, গণধর্ষণ, হত্যা,  অপহরণ, জোর করে ধর্মান্তর করন, ভূমি দখল, উচ্ছেদ, বিতারণ, মূর্তি ও মন্দির ভাঙচুরের মতো জঘন্য অপরাধ। এছাড়াও বহুগুণে বৃদ্ধ পেয়েছে মাদ্রাসায় বাচ্চা মেয়েদের ধর্ষণ, হত্যা ও ছেলে শিশু বলাত্কার। এই ধরনের ঘটনার সাথে আওয়ামী লীগের লোকজনই বেশি জড়িত। বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন পড়লেই আপনারা আরও সু-স্পষ্ট ধারণা পেয়ে যাবেন। সারা বাংলাদেশের মানুষের মনে এখন একটাই প্রশ্ন যে, এভাবে কোন দেশ চলতে পারেনা। শেখ হাসিনা বিশ্বের একমাত্র নেত্রী যিনি নিজ হাতে দেশের গণতন্ত্রকে হত্যা করেছেন ও কবর দিয়েছেন। তাছাড়াও সারা বিশ্বে তিনিই একমাত্র সর্বগ্রাসী সাম্প্রদায়িক নেত্রী, যার আমলে বাংলাদেশের হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও আদিবাসীরা সবচেয়ে বেশি নির্যাতনের শিকার হয়েছন এবং নির্যাতনের শিকার হয়ে দেশ ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন।   আজকের আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবসে বিশ্ব নেতৃবৃন্দের নিকট বিশষ করে ইসরায়েলের প্রধান মন্ত্রী বেনজামিন নেতানিয়াহু, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে অনুরোধ করছি, বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে পুনরোদ্ধার করতে আপনাদের কার্যক্রম শুরু করুন। তা না হলে শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে খুব শীঘ্রই ইসলামী রাস্ট্র ঘোষণা দিয়ে শরিয়া আইন প্রচলন করবেন। তখন বাংলাদেশে কোন হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও আদিবাসী থাকতে পারবে না। বাংলাদেশের জনগণ শেখ হাসিনাকে আর এক মূহুর্তও ক্ষমতায় দেখতে চাচ্ছে না। এমন কি তারা শেখ হাসিনার পরিবর্তে খালেদা জিয়াকেও পুনরায় প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দেখতে চাচ্ছে না। বাংলার জনগণের এখন একটাই চাওয়া; সেটা হচ্ছে যে কোন মূল্যে একটি নতুন অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত করা। যেখানে হিন্দু,, মুসলিম বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও আদিবাসীরা পারস্পারিক শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান করতে সক্ষম হবে। বাংলাদেশের সুশিল সমাজ, ছাত্র সমাজ, পেশাজীবি, বুদ্ধীজীবি, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, কুষক ও শ্রমজীবি সমাজের লোকজন মনে করেন, বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী ও কারাবন্ধী জননেতা লায়ন আসলাম চৌধুরীই একমাত্র বিকল্প অসাম্প্রদায়িক নেতা হিসাবে বাংলাদেশের হাল ধরতে সক্ষম হইবে।

শিপন কুমার বসু

ভাপতি

ওয়ার্ল্ড হিন্দু স্ট্রাগল কমিটি।

তারিখঃ ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং।

%d bloggers like this: