Blog

নির্বাচনে হিন্দু নারীদের ভোট, নিহার রঞ্জন বিশ্বাস।

হিন্দু মা-বোনেরা দুপুরের পরে কেন্দ্রে যাবে এবং যাকে ইচ্ছা তাকে ভোট দিবে।


ছবি- প্রতীকি

ভোটের দিন সকালে হিন্দু পাড়ায় ঢুকেই ঐ কে কোথায় আছেন গো, তাড়াতাড়ি সকাল সকাল ভোট দিয়ে চলে আসেন পরে ভিড় হয়ে যাবে, পু…রুষ লোকজন পরে গিয়ে ভোট দিতে পারবে। এইভাবে ডেকে ডেকে হিন্দু নারীদের কিছু লোক তাড়াতড়ি করে ভোট কেন্দ্রে নিয়ে যায়। তারাও ভেজাল এড়াতে খেয়ে না খেয়েই চলে যায় এবং পছন্দের লোকটিকে ভোট দিয়ে চলে আসে। এবং এই সুযোগে দেশের সাম্প্রদায়িক মিডিয়া গুলি ভোট কেন্দ্রের লাইনে দাঁড়ানো শাঁখা-সিধুঁর পড়া নারীদের ছবি ও ভিডিও করে নিয়ে আসে। মিডিয়া গুলিকে সাম্প্রদায়িক বলার কারণ হচ্ছে, সারা বছর হিন্দু নির্যাতনের কোন সংবাদ না ছাপলেও নির্বাচনের দিন তারা শাঁখা-সিধুঁর পড়া হিন্দু নারীদের ছবি ও ভিডিও করতেই বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়ে। কেন জানেন ? শুধুমাত্র বিদেশীদের ও দেশের কর্তা ব্যক্তিদের খুশি করতে আর তাদের মিডিয়ার কাটতি বাড়াতে। আশ্চর্য্যের বিষয় হচ্ছে, তখন হিন্দু বিদ্ধেষী দল গুলো যেমনঃ জামাতে ইসলাম, হেফাজতে ইসলাম এবং ওলামা লীগের মতো প্রচন্ড সাম্প্রদায়িক দলগুলোও কিন্তু শাঁখা-সিধুঁর পড়া হিন্দু নারীদের ছবি ও ভিডিও প্রচার করা নিয়ে কোন আপত্তি করেনা। তবে দিন শেষে পছন্দের প্রার্থী পাস করতে না পারলে তাদের হামলার লক্ষ্য বস্তুতে পরিণত হয় হিন্দু পাড়া গুলোই আর প্রথম হামলাটা শাঁখা-সিধুঁর পড়া হিন্দু নারীদের উপরেই করা হয়। অন্যদিকে হিন্দুদের ভোট পেয়ে পাস করে যাওয়া প্রার্থীটিও তখন হিন্দুদের সাহা্য্যে এগিয়ে আসেনা। আসবেই বা কেন তখনতো ওনি আনন্দ মিছিল নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। আনন্দ মিছিল আগে না হিন্দুদের সাহায্য করাটা আগে! ঠিক এমনটা নির্দয় নয়, তিনি অবশ্য আসবেন কিন্তু সেটা পরের দিন দুপুরের পরে। এসে খুবই দুঃখ প্রকাশ করে বলবেন আমি গতকালই শুনেছি কিন্তু লোকজন নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলাম তাই কাল আসতে পারিনি। তখন ভুক্তভোগী হিন্দু লোকজনদের শান্তনা দেওয়ার জন্য তিনি বলবেন তাদেরকে কোনভাবেই ছাড় দেওয়া হইবে না। আসলে আমরা হিন্দুরা একটু শান্তনা নামক হাওয়া পেলেই খুশিতে গদগদ হয়ে যাই, বিচার পাওয়ার প্রয়োজন পরেনা আর যেই দেশে সংখ্যালঘুরা বিচার পায়না সেখানে শান্তনাটাই বা কম কিসে !

ঘটনাস্খল পরিদর্শন শেষে তিনি বাড়ি গিয়ে দেখবেন হামলাকারীদের মধ্যে থেকে কয়েকজন ভালো মানুষ সেজে তার জন্য তারই বাড়িতে অপেক্ষা করতেছে। দেখা হতেই ওরা বলতে থাকবেন কাকা/নানা/ভাই মানে যে যেভাবে ডাকে আরকি, সেভাবই ডেকে বলছে কাকা পাড়ার কিছু ছেলে আমাদের বলেছে হিন্দু পাড়ায় গতকাল সন্ধার সময় কিছু কুলাঙ্গাররা হামলা করেছিলো তাদের সাথে আপনার বড় ভাইয়ের ছেলেটিও নাকি ছিলো.. ইত্যাদি ইত্যাদি, এখন কি করা ? তখন সদ্য পাস করা নেতা সাহেব তাদেরকে হাসি মুখে বলবেন, তোমরা বাড়িতে যাও আমি বিষয়টি দেখতেছি। আর যাওয়ার সময় তারে (ভাতিজাকে) বলে যেও সে যেন আপাতত হিন্দু পাড়ার দিকে না যায়।
এভাবেই ভোটের সময়ের ও অন্যান্য সময়ে হিন্দু পাড়ায় হামলার ঘটনায় ন্যায় বিচারের আশ্বাস দেওয়া হয়। আর হিন্দুরাও ন্যায় বিচারের আশায় থাকে, দিন যায় মাস যায় বছরও য়ায় বিচার আর হয়না। এভাবেই ঘটনা গুলিকে ধামাচাঁপা দেওয়া হয়, বিচার কখনো হয়না।
ন্যায় চিার চাইতে কেউই সহজে থানায় যায় না। প্রথমত, থানায় গেলে টাকা পয়সার একটা ব্যাপার থাকে। দ্বিতীয়ত, সরকারী দলের নেতারা চটে গেলে সমস্যা আরও জটিল হইবে। তৃতীয়ত, বর্তমানে থানা ওয়ালারাও সরকারী দলের নেতাদের কথার বাহিরে কিছু করিতে চায়না।
সেজন্য আমি সকল হিন্দুদের আহব্বান করছি আগামী নির্বাচন গুলিতে, মা-বোনদের কখনো দুপুরের আগে ভোট কেন্দ্রে পাঠাবেন না। মা-বোনেরা দুপুরের পরে কেন্দ্রে যাবে এবং যাকে ইচ্ছা তাকে ভোট দিবে। কখনো কাউকে ভোট দেওয়ার প্রতিশ্রোতি দেবেন না, সে যতই কাছের প্রার্থী হউক। আরও একটা বিষয় হলো সকাল সকাল হিন্দুদের ভোটের লাইন দেখে অনেকেই আন্দাজ করে নেয় তারা কোথায় ভোট দিয়ে গেছে, দিনের বাকী সময়ে তারা হামলার ছক কষে ফেলে।
অতএব, আমাদের ভোট আমরা দিব, যখন ইচ্ছা তখন দিব, কারো জোর জবরদস্তি চলবে না।

%d bloggers like this: