Blog

সংখ্যালঘু নির্যাতন ও অগ্নি সন্ত্রাস দমন করতে বারবার’ই ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে যাচ্ছে সরকার।

সংখ্যালঘু নির্যাতন ও অগ্নি সন্ত্রাস দমন করতে বারবার’ই ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে যাচ্ছে সরকার।
২০০১ নির্বাচনের পর হইতে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সারা দেশে বিএনপি-জামাত কর্তৃক ব্যাপক আকারে সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিরুদ্ধে বর্তমান আওয়ামী সরকার কোন কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি এমনকি কোন রহস্যও উদঘাটন করতে পারেনি।
১/ ২০১০ সালের ৩ জুন পুরান ঢাকার নবাব কাটরার নিমতলীতে ভয়াবহ আগুনের ঘটনায় ১২৪ জনের প্রাণহানির কথা এখনও মন থেকে মুছে যায়নি।
২/ ২০১৯ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি চকবাজারের চুরি হাট্টায় ভয়াবহ আগুনের ঘটনায় সরকারি হিসেবে ৬৭ জন মৃতের কথা বলা হলেও মানুষের মুখে মুখে রটে গেছে প্রায় ৮০ জনের।
৩/ ২০১৯ সালের ২৮ শে মার্চ রাজধানীর বনানীর ফারুক রূপায়ণ (এফ আর) টাওয়ারে ভয়াবহ আগুনের ঘটনায় ২৫ জনের লাশ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস।
উপরোক্ত অগ্নিকান্ডের পরপরই অনেক তদন্ত কমিশন/জাতীয় কমিশন/অগ্নি নির্বাপনে করণীয় ইত্যাদি ইত্যাদি বিষয়ে অনেক আলোচনা-সমালোচনা বিভিন্ন গণমাধ্যমের কল্যাণে দেখতে পেয়েছি। সরকারের এমপি, মন্ত্রী ও সিটি মেয়রদের অনেক প্রতিশ্রুতির কথাও দেশবাসী শুনেছে ও দেখেছে। এগুলোর একটি পদক্ষেপও বাস্তবায়ন করতে পারেনি সরকার। জনগণের জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ক্রমশই ব্যার্থ হচ্ছে সরকার।
২০১৪ সালের ৫ ই জানুয়ারী নির্বাচনের পর থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিদিনই হিন্দু ও অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকজন নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মেয়েদের ধর্ষণ, গণধর্ষণ, ধর্ষণের পর হত্যা, অপহরণ, জোরপূর্বক ধর্মান্তর করণ, খুন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, অগ্নি সংযোগ, জবার দখল, শ্মশান দখল, দলীয় নেতা-কর্মীদের মাঝে শ্মশান লিজ দেওয়া, পুকুরের মাছ চুরি, বিঁষ দিয়ে পুকুরের মাছ নিধন, দেশ থেকে বিতারণও বিতারনের হুমকি, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সংখ্যালঘুদের চাকরি না দেওয়া (ইসলামী ব্যাংক/ইবনে সিনা গ্রুপ), বসত বাড়িতে হামলা, ভাংচুর, অগ্নি সংযোগ, লুটপাট, শারিরিক ভাবে আক্রমন, শ্লীলতা হানি করা সহ এই ধরণের মানবতা বিরোধী জঘন্য অপরাধের একটি ঘটনারও আজ পর্যন্ত ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে পারেনি সরকার।
২০০১ সালের নির্বাচনের পর হইতে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি-জামাত পন্থী সন্ত্রাসীরাও একইভাবে উপরোল্লিখিত মানবতা বিরোধী অপরাধ গুলো ঘটিয়ে ছিলো। কিন্তু তখনকার চারদলীয় জোট সরকার একটি ঘটনারও বিচার করেনি। কিছু সংখ্যক সুবিধাভোগী হিন্দু নেতা ও আওয়ামী লীগের ভাষ্যমতে বিএনপি-জামাত হচ্ছে চিহ্নিত সংখ্যালঘু বিদ্ধেষী দল, এই কারণে তারা বিচার করবে না এটাকে সংখ্যালঘুরা মেনেই নিয়েছিলো। অন্যদিকে, সংখ্যালঘুরা ভেবেছিলো আগামীবার আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে প্রতিটি ঘটনার বিচার পাবে! কিন্তু না তথাকথিত অসাম্প্রদায়িক দল আওয়ামী লীগও বিএনপির দেখানো পথেই হাটতে শুরু করলো। কোনভাবেই সংখ্যালঘু নির্যাতন বন্ধ হইলো না। বরং আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর সংখ্যালঘু নির্যাতনের কৌশল হিসাবে যোগ হয়েছে নিত্য নতুন কৌশল যেমনঃ (১) ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত, (২) মহনবীর বিরুদ্ধে কুত্সা রটানো, (৩) কাবা শরীফ নিয়ে ব্যাঙ্গচিত্র ইত্যাদি ইত্যাদি।
….. নিহার রঞ্জন বিশ্বাস।
….. ৩০ শে মার্চ, ২০১৯ ইং।
%d bloggers like this: