Blog

হিন্দু অধিকার নিয়ে কথা বলতে এত আপত্তি কেন ? শিপন কুমার বসু।

Mendi Safadi and Shipan Kumer Basu
Mendi Safadi and Shipan Kumer Basu
আমরা জানি যে জেরুজালেম হচ্ছে ইহুদীদের পবিত্র ধর্মীয় স্থান। জেরুজালেম শহরের পিছনে রয়েছে ৩,০০০ বছরের মহাকাব্যিক ইতিহাস। এ পর্যন্ত ৫২ বার আক্রান্ত হয়েছে জেরুজালেম। অবরোধ, দখল ও পুনরুদ্ধার হয়েছে ৪৪ বার। ঘেরাও করা হয়েছে ২৩ বার এবং ধ্বংস করা হয়েছে ২ বার। ১৯৪৮ সালে ইসরায়েলের পত্তনের পর বিশ্বের প্রথম রাষ্ট্র হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
বিশ্বের প্রভাবশালী দেশ গুলো জেরুজালেম শহরটিকে ইসরায়েলের বলে স্বীকৃতি দিলেও ফিলিস্তিনিরা জেরুজালেমরে দাবী থেকে সরে আসেনি, কারণ মুসলিম অধ্যুষিত দেশ গুলো বছরের পর বছর ফিলিস্তিনিদের উস্কানি দিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি ওআইসি সম্মেলনে ৭০ টি মুসলিম দেশের সরকার জেরুজালেম নিয়ে ফিলিস্তিনিদের পক্ষে বিবৃতি দিয়েছে, তাদের মধ্যে বাংলাদেশের হাসিনাও ছিল।
২০১৬ সালের তথ্য অনুযায়ী ফিলিস্তিনে ৪৮.২ লাখ জনসংখ্যার বসবাস। এই অল্প সংখ্যক মানুষের জন্য ৭০ টি মুসলিম দেশ ঐক্যবদ্দ হয়ে বিবৃতি দেয়, পাশাপাশি কিছু অমুসলিম দেশও তাদের মদদ যোগায়। আবার এদিকে বাংলাদেশে শরনার্থী হিসাবে বসবাস করা মাত্র ১০ লাখ রোহিঙ্গার জন্য বিশ্ব সম্প্রদায় বার বার মিটিং করে, রোহিঙ্গাদের নিয়ে জাতিসংঘেও মিটিং হয়েছে, ইউরোপ, আমরিকাতেও মিটিং হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের ৩০ মিলিয়ন ও বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত ৫০.৫ মিলিয়ন (ভারতে উদ্বাস্তু হিসাবে বসবাসরত) হিন্দুদের জন্য আজ পর্যন্ত কেউ কোন বিবৃতি দেয়নি, কোথাও কোন মিটিংও হয়নি। আজ মনে বড় প্রশ্ন জাগে, বিশ্ব নেতৃবৃন্দরা কি সত্যিই সংখ্যালঘু ও নিপিড়িত মানুষের জন্য কাজ করে ? নাকি শুধু মুসলমানদের জন্যই কাজ করা তাদের একমাত্র পবিত্র দায়িত্ব বলে মনে করে।
উল্লেখ্য যে, ১৯৪৭ সালে দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের পর হইতে এই পর্যন্ত ৫০.৫ মিলিয়ন হিন্দু বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত হয়ে ভারতে চলে এসেছে। শুধুমাত্র ১৯৫০ সালে বাংলাদেশ থেকে ১ মাসে ৫০ লাখের বেশি হিন্দু বাধ্য হয় দেশান্তরিত হযে ভারতে আশ্রয় নিতে। ১৯৪৭ এর পর থেকে ১৯৫২ পর্যন্ত এই ৫ বছরে পূর্ববঙ্গের হিন্দু ২৯% থেকে ২২% এ নেমে এলো, মুসলমানদের দ্বারা লিপিবদ্ধ ইতিহাসে এই তথ্য আপনি কোথাও পাবেন না। কেননা তারা হিন্দু নির্যাতন সম্পর্কে কখনোই সঠিক তথ্য প্রকাশ করবে না, এটা কমবেশি সবাই জানে।
তারপর ১৯৭১ থেকে ২০১৯ এর এপ্রিল পর্যন্ত এই সময়ে বিএনপি-জামাতের খালেদা জিয়া সরকার, জাতীয় পার্টির এরশাদ সরকার ও আওয়ামী লীগের হাসিনা সরকারের আমলে নির্যাতনের শিকার হয়ে প্রতিদিন বাড়িঘর ফেলে হিন্দুরা ভারতে পাড়ি জমিয়েছে। কারও শাসনামলেই বাংলাদেশের হিন্দুরা ভালো ছিল না। সরকরি হিসাবে এখনও বাংলাদেশে প্রায় ১০% বা ১৭ মিলিয়ন হিন্দু জনসংখ্যা আছে। আমাদের হিসাব অনুয়ায়ী এই সংখ্যাটা কম করে হলেও ৩০ মিলিয়ন হইবে।
বাংলাদেশ স্বাধীন হলেও হিন্দুরা প্রকৃত স্বাধিনতার স্বাদ আজও পায়নি। স্বাধীনতার আগে ও পরে হিন্দু নির্যাতন একই রয়েছে। বরং হাসিনা সরকারের আমলে হিন্দু নির্যাতন বেড়ে গিয়েছে কয়েক গুণ। তবুও বিশ্বসম্প্রদায় সম্পূর্ণ নিরবতা পালন করছে। শুধুমাত্র দরদ দেখাচ্ছে ফিলিস্তিনি ও রোহিঙ্গাদের জন্য।
আমি মনেকরি, বাংলাদেশের হিন্দুদের সমস্যা একটি পুরানো ও বৃহত্তম সমস্যা। তাই বিশ্বসম্প্রদায়কে সর্ব প্রথম বাংলাদেশের হিন্দুদের সমস্যাটি সমাধান করার উদ্দ্যোগ নিতে হইবে। তারপরে ফিলিস্তিনি ও রোহিঙ্গাদের সমস্যা নিয়ে ভাবা উচিত।
তাছাড়া ভারত সরকারের উচিত, সারা ভারতে NRC করে বাংলাদেশ থেকে আগত সকল হিন্দু উদ্বাস্তুদের ফেরত পাঠানো। মাতৃভূমি জননী সম, এটা সবাই জানে। প্রিয় মাতৃভূমি ছেড়ে হিন্দুরা আজ ভারতের মাটিতে খুব কষ্টে জীবণ যাপন করছে, এবং তাদের আত্মীয় পরিজন এখনও বাংলাদেশে রয়ে গেছে। আত্মীয় পরিজনের সাথে দেখা করতে ভারতে আসতে তাদের নানান ভোগান্তী পোহাতে হয়। দারীদ্রতার কারণে অনেকে আত্মীয় পরিজনের সাথে দেখাও করতে পারেনা। যেহেতু তাদের জন্মভূমি বাংলাদেশে এবং তাদের পূর্বপুরুষদের সমাধিস্থলও বাংলাদেশে, তাই তাদেরকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো ভারতের দায়িত্ব এবং কর্ত্যব্য। এতে করে ভারতে উদ্বাস্তু সমস্যাও লাগব হইবে এবং হিন্দুরাও তাদের প্রিয় মাতৃভূমি ও আত্মীয় পরিজনের সাথে বসবাস করিতে সামর্থ হইবে।
কয়েকটি অনলাইন পত্রিকার মারফতে জানতে পারিলাম যে, ঢাকেশ্বরী মন্দিরে পূঁজা দিতে মোদীজি খুব শীঘ্রই বাংলাদেশে যাচ্ছেন। মোদীজির বাংলাদেশ সফরকে গুরুত্ব দিয়ে বলতে চাই। ঢাকেশ্বরী মন্দিরে পূঁজা দিয়েই মোদীজি যেন দখল হয়ে যাওয়া হিন্দুদের ভূমি উদ্ধারের ঘোষনা দেন। কেননা, বাংলাদেশে থেকে এ্ই পর্যন্ত যে সকল হিন্দুরা ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন; তাদের বেশিরভাগ হিন্দুরাই ভারতে আসার সময় তাদের জমি বিক্রি করতে না পেরে কোন রকম জীবণ নিয়ে পালিয়ে এসেছিল। পরবর্তিতে এই জমি গুলো মুসলমানরা ভোগদখল করে খাচ্ছে। তাই এই জমি গুলো উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকের কাছে ফেরত দেওয়া আমাদের সকলের কর্ত্যব্য।
পরিশেষে বলতে চাই যে, জেরুজালেমে ইহুদীদের পূর্ণাঙ্গ অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া হউক এবং ৫০.৫ মিলিয়ন হিন্দু ভারতে উদ্বাস্তু হিসাবে বসবাসকারীদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠিয়ে মোট ৮০.৫ মিলিয়ন হিন্দুদেরকে বাংলাদেশে নিরাপদে বসবাস করার ব্যবস্থাটি নিশ্চিত করা হউক। ইহুদী ও হিন্দুদের সমস্যাটি সমাধান হওয়ার পরে ফিলিস্তিনি ও রোহিঙ্গাদের বিষয়টিকে সামনে আনা হউক। তাছাড়া আমি আরও মনে করি ধারাবাহিকতা না থাকলে কোন কাজে সফলতা আসেনা ওবং এর সুমনামও অক্ষুন্ন থাকে না। তাই বিশ্বসম্প্রদায়ের উচিত কাজের ধারাবাহিকতা ও শৃঙ্খলাবোধ ধরে রাখা।
শিপন কুমার বসু/ ১১ই জুন, ২০১৯ইং।
%d bloggers like this: